Academy

রহিম তার নানির সাথে এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে অনেকগুলো কবুতর দেখতে পায়। একটি কবুতর তার খুব পছন্দ হয়। তাই সে বায়না ধরে কবুতরটি আত্মীয়ের কাছ থেকে উপহার হিসেবে নিয়ে আসে। রহিম কবুতরটির নাম দেয় রাজা। সারাক্ষণ রহিম রাজার সাথে কথা বলে, আদর করে, তার খাবারের একটি অংশ রাজাকে খেতে দেয়। তার মা কবুতর নিয়ে এত বাড়াবাড়ি পছন্দ করতেন না। একদিন দেখা গেল রাজাকে খাটাশে খেয়ে ফেলেছে। রাজার মৃত্যু রহিমকে খুব ব্যথিত করে।

"উদ্দীপকটি 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের খণ্ডচিত্র মাত্র" - উক্তিটি বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 3 months ago | Updated: 3 months ago
Updated: 3 months ago
Ans :

"উদ্দীপকটি 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের খণ্ডচিত্র মাত্র"- উক্তিটি সত্য।

মানুষ অনেক সময় পোষা প্রাণী বা অন্যান্য সাধারণ জীবজন্তুর প্রতি স্নেহ-মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আবার বাস্তবতার কারণে সেই স্নেহ-মায়া ত্যাগও করতে হয়।

উদ্দীপকের রহিম আত্মীয়ের বাড়ি থেকে যে কবুতর আনে তার নাম রাখে 'রাজা'। রহিম তাকে খাবারের ভাগ দেয়, তার সাথে কথা বলে, আদর করে। কিন্তু একদিন রাজাকে খাটাশে খেয়ে ফেলে। এতে রহিম খুব ব্যথিত হয়। অন্যদিকে মানবেতর প্রাণীর প্রতি এ মমত্ববোধ আমরা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পেও দেখতে পাই। লেখক একটি কুকুরকে অতিথির মর্যাদা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাকে খেতে দেন, তার সাথে কথা বলেন। একদিন না চাইলেও অতিথিকে ছেড়ে তাঁকে নিজ বাড়িতে চলে যেতে হয়। এ বিষয়টি ছাড়াও গল্পটিতে আরও প্রকাশ পেয়েছে দেওঘরের প্রকৃতি, পরিবেশ, বাড়ি, বাড়ির আশেপাশের মানুষজনের কথা, তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার কথা। একটি দরিদ্র মেয়ের দুঃখ-দুর্দশার কথা। অতিথিকে মালি বউয়ের অপছন্দের কারণ এবং কষ্ট পেলেও লেখকের বাস্তবসম্মত মনোভাবের কথা। উদ্দীপকে যা অনুপস্থিত।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে অনেক বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের একটি বিষয় মাত্র প্রকাশ পেয়েছে, আর তা হলো জীবের প্রতি স্নেহ-মমতা ও প্রেম। আলোচ্য গল্পের অন্যান্য বিষয়ের প্রকাশ না থাকায় আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সত্য।

3 months ago

সাহিত্য কনিকা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তন।

চাকরদের ভয়ে লেখকের অতিথি কুকুরটি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।

লেখক কুকুরটিকে অন্ধকার পথে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার জন্য বললেন। তার লেজ নাড়তে দেখে লেখক বুঝলেন সে রাজি আছে। তিনি কুকুরটিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনে এলেন। গেট খুলে ওই কুকুরকে ভেতরে ডাকলেন। কিন্তু কুকুরটি বাইরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়তে লাগল। ভেতরে ঢুকল না কারণ কুকুরটি ভয় পেয়েছিল। সে ভেবেছিল ভেতরে ঢুকলে হয়তো তাকে প্রহার করা হবে।

উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক কুকুরের প্রতি যে স্নেহপূর্ণ আচরণ করেছেন সেই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক মানুষ পশু-পাখিকে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করে। এই পশু-পাখি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথিও হয়ে ওঠে।

উদ্দীপকের মহেশ হলো দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড়। দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না বলে কষ্টে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, মহেশ তার ছেলে, তাকে পেটপুরে খেতে দিতে না পারলেও তাকে সে অনেক ভালোবাসে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অতিথি পথের একটি কুকুর, বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গী। লেখক চাকরকে বলেন, কুকুরটি যদি গেটের ভেতরে আসে তবে তাঁকে যেন খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু অতিথি গেটের ভেতর না ঢুকে চলে যায়। পরদিন তিনি অতিথিকে গেটের বাইরে দেখে জানতে চাইলেন, গতকাল তার নিমন্ত্রণে সে এলো না কেন। আজ যেন সে খেয়ে যায়, না খেয়ে যেন যায় না। এছাড়াও দেওঘর থেকে ফেরার সময় লেখকের খুব কষ্ট হয় তাকে ছেড়ে আসতে। এভাবে উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের কুকুরের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

"উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষের সাথে মানুষের যেমন স্নেহ-মমতার সম্পর্ক বিদ্যমান তেমনই প্রাণীর সাথেও মানুষের মমতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। পশু-পাখিও মানুষের ভালোবাসা বুঝতে পেরে তার প্রতিদান দেয়।

উদ্দীপকের গফুরের পোষা প্রাণী একটি ষাঁড়- নাম মহেশ। সে দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি দিতে পারে না। খাবারের জন্য মহেশের দুঃখের সীমা নেই দেখে সন্তানতুল্য মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদে গফুর। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসা লেখকের সাথে একটি কুকুরের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তাকে রেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য লেখকের মনে আগ্রহ ছিল না।

উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির দিক দিয়ে মিল লক্ষ করা যায়। কিন্তু গফুর দারিদ্র্যের কারণে তার পোষা প্রাণী মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছে না। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক বেড়াতে এসে একটি কুকুরের সাথে স্নেহের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি চাকরদের দিয়ে তাকে খাবার খেতে দেন। প্রাণীর প্রতি গফুর ও আলোচ্য গল্পের লেখকের মমতা প্রমাণ করে চেতনাগতভাবে তারা এক। কিন্তু পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।

লেখকের অতিথি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক পথে বেড়াতে বের হতেন একা একা। একদিন বাড়ি ফিরতে তার সন্ধ্যা হয়ে যায়, পথের একটি কুকুর সঙ্গী হয়। তারপর থেকে প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে। কুকুরটির এরূপ আচরণে লেখকের মনে কুকুরটির জন্য অকৃত্রিম মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে যখন বিদায় নেওয়ার দিন এসে পড়ে তখন কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...